সংযোজন -০১

এরিষ্টটলের সংবিধানের পরিবর্তন রাষ্ট্রের পরিবর্তন সূচিত করে। সংবিধান ও রাষ্ট্রের এই অভিন্নতা পক্ষান্তরে রাষ্ট্র ও দলের অভিন্নতার নামান্তর। কারন নতুন দল ক্ষমতায় এসে যদি সংবিধানের মধ্যে পরিবর্তন করে তাহলে রাষ্ট্রের মধ্যে পরিবর্তন করে।
এরিষ্টটল মূলত প্রায় দেড় শতাধিক রাষ্ট্রের বাস্তব শাসন ব্যবস্থার পর্যালোচনলব্ধ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র তাত্ত্বিক ধারণা দেন।

[এরিষ্টটলের পদ্ধতি ছিল মূলত আরোহ প্রকৃতির (Inductive)। এই পদ্ধতির মূল কথা হল প্রথমে একটা প্রকল্প বা অনুমান গ্রহণ করা এবং পরে থাকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্দেশ্যে নানা প্রকার তথ্য সংগ্রহ করা। এগুলো পর্যবেক্ষন ও বিশ্লেষন করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। তিনি ইতিহাস সমর্থিত ঘটনা সমূহের তুলনামূলক (Comparative) বিশ্লেষনের পদ্ধতি অনুসরন করেন। এরিষ্টটল অনুসৃত পদ্ধতিকে অভিঞ্জতামূলক (Empirical) পদ্ধতিও বলা যায়। তাছাড়া এরিষ্টটল তার অনুসৃত পদ্ধতিতে উদ্দেশ্যবাদের (Teleology) উপর যথেষ্ট গুরুত্ত আরোপ করেন।

]
আদর্শ রাষ্ট্র সম্পর্কে এরিষ্টটল বিশ্বাস করেন যে, তা অবশ্যই আদর্শগত সদগুন দ্বারা শাসিত হবে এবং শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিরাই শাসন পরিচালনা করবেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, শাসক যদি সদগুনের অধিকারী হয় তাহলে কেবল সে গণতন্ত্রই হবে রাজনৈতিক

সংবিধানের যেকোন সংশোধন- এককথায় সরকার বা সংবিধানের যেকোন পরিবর্তনকে তিনি বিপ্লবের আওতাভুক্ত করেছেন।

[এরিষ্টটল বিপ্লবের বর্ণনা করতে গিয়ে গ্রীক স্টাটিস শব্দটি ব্যবহার করেছেন। স্টাটিস শব্দটির সঠিক ভাষান্তর বিপ্লব নয়। “স্টাটিস বলতে এমন একটি অস্তির অবস্থাকে বুঝানো হয়, যে অস্থির অবস্থাতে হিংসাত্বক বিস্ফোরন অবশ্যম্ভাবি হয়ে উঠে”। (৫ম পুস্তক, প্রথম অধ্যায়)। সুতরাং স্টাটিস শব্দের অর্থ বিপ্লব না হয়ে আস্থিরতা বা পরিবর্তনশীলতা হতে পারে।]

Advertisements

“গনতন্ত্রের নীতি করন ও টেকসই উন্নয়ন “

নাম ” গনতন্ত্র “, জন্ম ‘ গ্রিস’।

বিখ্যাত দার্শনিক সক্রেটিসও জন্ম গ্রহণ করেন গ্রিসে।

দার্শনিক সক্রেটিস এর মৃত্যুর ঘটনা আমাদের অজানা নয়। তার ওপর মিথ্যা অভিযোগের বিচার কার্যে ৫০১ জনের বিচারক ছিলো। যেখানে বিচারকগণ বিচার কার্য সম্পন্ন করার জন্য তাদের মধ্যে গনতান্ত্রিক পদ্ধতি অবলম্বন করে। কিন্তু সেখানে জ্ঞানহীন বিচারকদের বিচারে ২৮১-২২০ ভোটে সক্রেটিসকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তাকে বিষ পান করে মৃত্যুর দন্ড দেওয়া হয়। শুধুমাত্র বিচারকদের জ্ঞানহীনতার জন্য যে সক্রেটিস এর মৃত্যুদন্ড তা বর্তমান সময়ে কারো অজানা নয়।

শিষ্য ” প্লেটো ” , গুরু ‘ সক্রেটিস ‘
প্লেটো রাষ্ট্রের নাগরিকদের তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন-(১) শাসক সম্প্রদায় (২) সৈনিক (৩) জনসাধারণ ও ক্রীতদাস। রাষ্ট্র তখনই সুপরিচালিত হয় যখন তিন বিভাগের কাজের মধ্যে সুসামঞ্জস্য বর্তমান থাকে এবং প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে। তিনি বলেছেন, শাসক সম্প্রদায়ের প্রয়োজন জ্ঞান, সৈনিকদের চাই সাহস, বীরত্ব, জনগণের প্রয়োজন সংযম ও শাসকদের প্রতি আনুগত্য। রাষ্ট্রের উন্নতি-অবনতি অনেকাংশে নির্ভর করে শাসকদের ওপর। তাই প্লেটো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন শাসক নির্বাচনের ওপর।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ” স্বদেশ, শিক্ষা ও সমস্যা “

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাঙ্গালি জাতি শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই বুঝিতে আরম্ভ করিয়াছে । যেমনটা তারা আগে থেকেই বুঝিত ” ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না ” আবার ” ঘোড়ার কাজ কি গাধা দিয়ে হয় ” প্রভৃতি । যাহোক এমন প্রবাদ বাক্য বাংলার গ্রামের কোষপুঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । কিন্তু এর গুরুত্ব না বুঝিয়া কেবল বাহ্য ব্যবহার হয়ে আসছে এ কাল অবধি। কিন্তু বাঙালির বর্তমান এ পরিনতির জন্য আমি এদের কখনো দোষারোপ করব না, তবে বহমান সময় এদের অভিসাপ থেকে মুক্তি দেয়নি। কারণ, ব্রিটিশ কর্তৃক প্রবর্তিত কেরানী তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থাই এর মূল কারন । ততকালীন সময়ে হিন্দু কলেজ থেকে যারা কেবল ইংরেজিতে ভালো পন্ডিত হইত তাদেরকেই কেবল পিয়ন বা কেরানীর চাকরি দেওয়া হইত । সেই কেরানী তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা আজ ও বাংলায় রয়ে গেছে, তাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কে কেবল ‘ চাকরি পাওয়া ‘ বলেই শিখে আসছে । বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে নিবেদিত প্রান জন বীটন সাহেব দেখিলেন এই অনুকরণ প্রিয় জাতি শিক্ষাকে কেবল চাকরি পাবার মাধ্যম হিসেবে ধরে নিয়েছে, নিজের সত্ত্বাকে ভৃত্যে পরিনত করছে । তখন তিনি বলেছিলেন ” যে শিক্ষা স্বদেশ কে চেনায় না, নিজ সংস্কৃতিকে চেনায় না, সে শিক্ষা আসলে কোন শিক্ষা না ” । জন বীটনের সময় থেকে দু’শ বছর পেরিয়ে গেল, এ জাতি কেবল বুঝিতে শুরু করেছে এ ভৃত্য তৈরির শিক্ষা আসলে কোন শিক্ষা না । কাজেই, কোন জাতি’র দেশ ও সংস্কৃতি কে সামনে রেখে যে শিক্ষা, তাই ঐ জাতির প্রকৃত শিক্ষা এবং তা ক্রমেই ঐ জাতিকে উন্নততর করে তুলবে । বর্তমান সময়ের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা যে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে সকলকে ভৃত্য বানিয়ে ফেলছে তার প্রকৃত উদাহরণ এই যে, যে শিক্ষার্থী ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গবেষণা ও স্বদেশের কল্যান করার কথা । দেখা যায় সেই শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার-ই পাশ করে বিসিএস দিয়ে পুলিশ, ম্যাজিস্টেট, পররাষ্ট্র বিভিন্ন ক্যাডার হচ্ছে । বড় কোন নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মানে হচ্ছে যে বড় কোন চাকরি পাবে । অর্থাৎ শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন কেবল চাকরি পাওয়া এ বিশ্বাস যেনো সবার মগজে গেথে গেছে । সময়ের সাথে সাথে অনেক লেখক এই শিক্ষা ব্যবস্থা কে ‘মানুষ মারার কল’, ‘বেকার তৈরির কারখানা ‘ প্রভৃতি বলে উল্লেখ করেছেন । কিন্তু সত্যিকার অর্থে এগুলো কেবল প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দৃশ্যমান কিছু ফল। আসলে, প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের যাবতীয় সমস্যার মূল এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা, যার অনেক সরাসরি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না

বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক লেখা দেখা যাচ্ছে যে কতিপয় গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান যোগ্যতা নিয়ে । উক্ত ব্যাক্তি সমূহের যোগ্যতা এরুপ যে, তারা গবেষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত অথচ তাদের ব্যাক্তিগত কোন গবেষণাপত্র নেই, শুধুমাত্র এদেশ সেদেশ থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত । রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন গবেষণা সংস্থার প্রধানদের যোগ্যতা এরুপ হলে রাষ্ট্র এসব সংস্থার নিকট হতে কি পাবে বা প্রত্যাশা করতে পারে?। এখানেই কেবল শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে শুরু করছে যে উক্ত ব্যাক্তিসমূহের নিজস্ব গবেষণাপত্র থাকতে হবে । কিন্তু এরপর ও অারেকটি প্রশ্ন থেকে যায় যে এরুপ ব্যাক্তিবর্গ ঐ পদে আসলো কি করে?? তাকে ঐ পদে নিয়োগ দিয়েছে অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালকগন । এখন তাহলে রাষ্ট্র পরিচালকগণের শিক্ষাগত যোগ্যতায় অাসি । তার আগে আর একটু বলে নেই, কোন গবেষণা সংস্থায় একজন গবেষক নিয়োগ দেওয়া হলে -গবেষকের কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন, কার সেই যোগ্যতা আছে, এবং কাকে নিয়োগ দিলে ভালো হবে, তা পর্যালোচনা করতে হলে তাকেও অবশ্যই গবেষক হতে হবে । কারন, একজন গবেষকের পর্যালোচনা কেবল একজন গবেষকই পারেন । কিন্তু আমাদের দেশের রাষ্ট্র পরিচালকগণের যোগ্যতা এরুপ যে, কেউ স্বশিক্ষিত, কেউ মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, কেউ ব্যবসাই, কেউ শিল্পী -অভিনেতা, কেউ আমলা ছিল, কেউ সেনা ছিল প্রভৃতি । কজেই, শিক্ষার যে মূল্য তা আর দেওয়া হচ্ছে না। আর প্রকৃত বা দেশজ শিক্ষার তুলনায় ঐসব গবেষক যোগ্যতাহীন হলে, তদানুযায়ী বলা যায় আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকগণের মাঝে এখনো শিকার আলো পৌঁছাতে পারেনি । কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালকগণের হওয়ার কথা গবেষকদের গবেষক । তাই, আগেই বলেছি এ জাতি কেবল শিক্ষার মূল্য বুঝতে শুরু করেছে কিন্তু অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি ।

এবার আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একটা সময় ছিলো যখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মানেই বুদ্ধিজীবী ভাবা হতো। কারণ, তখন তারা স্বদেশ ও নিজ সংস্কৃতিকে জানতো, এমনকি তারা স্বদেশের জন্য অকাতরে প্রান দিয়েছেন । কিন্তু বর্তমান সময়ে এরুপ দাড়িয়েছে যে- যে ছাত্র কেবল নোট শীট এ বদ্ধ থেকে সিজিপিএ-৪ পেয়ে ডিপার্টমেন্টের ফাস্ট হয়েছে, তাকেই বুদ্ধিজীবীর ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে । অথচ এদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় বুদ্ধিজীবী দিবস কবে?? দেখা যাবে উত্তর দিতে পারছে না, নতুবা ভাব নিয়ে বলবে এসব ইতিহাস টিতিহাস অার্ট্সের শিক্ষার্থীরা জানবে । এই হলো বর্তমান সময়ের ট্যাগধারী বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ শিক্ষার উদ্দেশ্য বলতে দুটো জিনিস বুঝে হয় ১. ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হতে হবে, নতুবা ২. বিসিএস দিতে হবে, যা কেবল চাকরি কেন্দ্রিক বিশ্বাস, মনোভাব বা এর বহিঃপ্রকাশ । কিন্তু একথা স্মরণ রাখা উচিত যে স্বদেশ ও সংস্কৃতি কে সামনে না রেখে যে শিক্ষাই গ্রহন করা হোক না কেনো, তা প্রকৃতপক্ষে কোন শিক্ষা নয় এবং সে শিক্ষায় স্বদেশের কোন কল্যান আসবে না ।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ ” স্বদেশ, শিক্ষা ও সমস্যা “

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর বাঙ্গালি জাতি শিক্ষার গুরুত্ব ক্রমেই বুঝিতে আরম্ভ করিয়াছে । যেমনটা তারা আগে থেকেই বুঝিত ” ছাগল দিয়ে ধান চাষ হয় না ” আবার ” ঘোড়ার কাজ কি গাধা দিয়ে হয় ” প্রভৃতি । যাহোক এমন প্রবাদ বাক্য বাংলার গ্রামের কোষপুঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে । কিন্তু এর গুরুত্ব না বুঝিয়া কেবল বাহ্য ব্যবহার হয়ে আসছে এ কাল অবধি। কিন্তু বাঙালির বর্তমান এ পরিনতির জন্য আমি এদের কখনো দোষারোপ করব না, তবে বহমান সময় এদের অভিসাপ থেকে মুক্তি দেয়নি। কারণ, ব্রিটিশ কর্তৃক প্রবর্তিত কেরানী তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থাই এর মূল কারন । ততকালীন সময়ে হিন্দু কলেজ থেকে যারা কেবল ইংরেজিতে ভালো পন্ডিত হইত তাদেরকেই কেবল পিয়ন বা কেরানীর চাকরি দেওয়া হইত । সেই কেরানী তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থা আজ ও বাংলায় রয়ে গেছে, তাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কে কেবল ‘ চাকরি পাওয়া ‘ বলেই শিখে আসছে । বাংলায় নারী শিক্ষা বিস্তারে নিবেদিত প্রান জন বীটন সাহেব দেখিলেন এই অনুকরণ প্রিয় জাতি শিক্ষাকে কেবল চাকরি পাবার মাধ্যম হিসেবে ধরে নিয়েছে, নিজের সত্ত্বাকে ভৃত্যে পরিনত করছে । তখন তিনি বলেছিলেন ” যে শিক্ষা স্বদেশ কে চেনায় না, নিজ সংস্কৃতিকে চেনায় না, সে শিক্ষা আসলে কোন শিক্ষা না ” । জন বীটনের সময় থেকে দু’শ বছর পেরিয়ে গেল, এ জাতি কেবল বুঝিতে শুরু করেছে এ ভৃত্য তৈরির শিক্ষা আসলে কোন শিক্ষা না । কাজেই, কোন জাতি’র দেশ ও সংস্কৃতি কে সামনে রেখে যে শিক্ষা, তাই ঐ জাতির প্রকৃত শিক্ষা এবং তা ক্রমেই ঐ জাতিকে উন্নততর করে তুলবে । বর্তমান সময়ের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা যে মনস্তাত্ত্বিক ভাবে সকলকে ভৃত্য বানিয়ে ফেলছে তার প্রকৃত উদাহরণ এই যে, যে শিক্ষার্থী ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হয়ে গবেষণা ও স্বদেশের কল্যান করার কথা । দেখা যায় সেই শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার-ই পাশ করে বিসিএস দিয়ে পুলিশ, ম্যাজিস্টেট, পররাষ্ট্র বিভিন্ন ক্যাডার হচ্ছে । বড় কোন নাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার মানে হচ্ছে যে বড় কোন চাকরি পবে । অর্থাৎ শিক্ষার উদ্দেশ্য যেন কেবল চাকরি পাওয়া এ বিশ্বাস যেনো সবার মগজে গেথে গেছে । সময়ের সাথে সাথে অনেক লেখক এই শিক্ষা ব্যবস্থা কে ‘মানুষ মারার কল’, ‘বেকার তৈরির কারখানা ‘ প্রভৃতি বলে উল্লেখ করেছেন । কিন্তু সত্যিকার অর্থে এগুলো কেবল প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার দৃশ্যমান কিছু ফল। আসলে, প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রের যাবতীয় সমস্যার মূল এই প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থা, যার অনেক সরাসরি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না

বর্তমান সময়ে পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক লেখা দেখা যাচ্ছে যে কতিপয় গবেষণা সংস্থার চেয়ারম্যান যোগ্যতা নিয়ে । উক্ত ব্যাক্তি সমূহের যোগ্যতা এরুপ যে, তারা গবেষক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত অথচ তাদের ব্যাক্তিগত কোন গবেষণাপত্র নেই, শুধুমাত্র এদেশ সেদেশ থেকে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত । রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন গবেষণা সংস্থার প্রধানদের যোগ্যতা এরুপ হলে রাষ্ট্র এসব সংস্থার নিকট হতে কি পাবে বা প্রত্যাশা করতে পারে?। এখানেই কেবল শিক্ষার গুরুত্ব বুঝতে শুরু করছে যে উক্ত ব্যাক্তিসমূহের নিজস্ব গবেষণাপত্র থাকতে হবে । কিন্তু এরপর ও অারেকটি প্রশ্ন থেকে যায় যে এরুপ ব্যাক্তিবর্গ ঐ পদে আসলো কি করে?? তাকে ঐ পদে নিয়োগ দিয়েছে অবশ্যই রাষ্ট্র পরিচালকগন । এখন তাহলে রাষ্ট্র পরিচালকগণের শিক্ষাগত যোগ্যতায় অাসি । তার আগে আর একটু বলে নেই, কোন গবেষণা সংস্থায় একজন গবেষক নিয়োগ দেওয়া হলে -গবেষকের কেমন যোগ্যতা প্রয়োজন, কার সেই যোগ্যতা আছে, এবং কাকে নিয়োগ দিলে ভালো হবে, তা পর্যালোচনা করতে হলে তাকেও অবশ্যই গবেষক হতে হবে । কারন, একজন গবেষকের পর্যালোচনা কেবল একজন গবেষকই পারেন । কিন্তু আমাদের দেশের রাষ্ট্র পরিচালকগণের যোগ্যতা এরুপ যে, কেউ স্বশিক্ষিত, কেউ মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, কেউ ব্যবসাই, কেউ শিল্পী -অভিনেতা, কেউ আমলা ছিল, কেউ সেনা ছিল প্রভৃতি । কজেই, শিক্ষার যে মূল্য তা আর দেওয়া হচ্ছে না। আর প্রকৃত বা দেশজ শিক্ষার তুলনায় ঐসব গবেষক যোগ্যতাহীন হলে, তদানুযায়ী বলা যায় আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকগণের মাঝে এখনো শিকার আলো পৌঁছাতে পারেনি । কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালকগণের হওয়ার কথা গবেষকদের গবেষক । তাই, আগেই বলেছি এ জাতি কেবল শিক্ষার মূল্য বুঝতে শুরু করেছে কিন্তু অন্ধকার থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেনি ।

এবার আসি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, একটা সময় ছিলো যখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মানেই বুদ্ধিজীবী ভাবা হতো। কারণ, তখন তারা স্বদেশ ও নিজ সংস্কৃতিকে জানতো, এমনকি তারা স্বদেশের জন্য অকাতরে প্রান দিয়েছেন । কিন্তু বর্তমান সময়ে এরুপ দাড়িয়েছে যে- যে ছাত্র কেবল নোট শীট এ বদ্ধ থেকে সিজিপিএ-৪ পেয়ে ডিপার্টমেন্টের ফাস্ট হয়েছে, তাকেই বুদ্ধিজীবীর ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে । অথচ এদের যদি জিজ্ঞেস করা হয় বুদ্ধিজীবী দিবস কবে?? দেখা যাবে উত্তর দিতে পারছে না, নতুবা ভাব নিয়ে বলবে এসব ইতিহাস টিতিহাস অার্ট্সের শিক্ষার্থীরা জানবে । এই হলো বর্তমান সময়ের ট্যাগধারী বুদ্ধিজীবীদের অবস্থা । বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আজ শিক্ষার উদ্দেশ্য বলতে দুটো জিনিস বুঝে হয় ১. ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক হতে হবে, নতুবা ২. বিসিএস দিতে হবে, যা কেবল চাকরি কেন্দ্রিক বিশ্বাস, মনোভাব বা এর বহিঃপ্রকাশ । কিন্তু একথা স্মরণ রাখা উচিত যে স্বদেশ ও সংস্কৃতি কে সামনে না রেখে যে শিক্ষাই গ্রহন করা হোক না কেনো, তা প্রকৃতপক্ষে কোন শিক্ষা নয় এবং সে শিক্ষায় স্বদেশের কোন কল্যান আসবে না ।

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ “স্বাধীনতার মাত্রা”

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে স্বাধীনতা ( independency ) খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং এর পক্ষান্তরে রয়েছে পরাধীনতা ( subserviency)।

মূল আলোচনায় আসি, রাষ্ট্রকে গণতান্রিক হতে হলে নাগরিকের স্বাধীনতা ( independency) মুখ্য ও অবিচ্ছেদ্য। তবে এ ক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন থাকে যে, স্বাধীনতা বলতে কি বুঝায় বা কাকে বলে?? এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রিক সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ বিভিন্ন উত্তর বা মত প্রকাশ করে। যেমন ধরেন একজন কৃষক কে এ প্রশ্ন করলে, উত্তরে বলে- ” আমার খেতে আমার মন যা চায় যখন খুশি তখনই তাই চাষ করবো এটাই তো স্বাধীনতা “। রাখাল কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলে-” আমি বৃক্ষের ছায়ায় বসে আর আমার ছাগল গুলো মুক্তভাবে চড়ে বেড়াচ্ছে, এটাই তো স্বাধীনতা “। গৃহিণী কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলে-” সংসারের কাজ আমার ইচ্ছা মত করব এতে পুরুষ লোকের কিছু বলার থাকবে না এটাই তো স্বাধীনতা “। গ্রামের মাতবর টাইপের লোকদের এ প্রশ্ন করলে উত্তরে বলে-” শোনেন বাবু গ্রামের সবাই জানে আমি গণ্য মান্য লোক। এখন আমার কোনো কাজে কেউ বাধা না দিলেই হলো, এটাই তো স্বাধীনতা “। শিশু-তরুণদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলে-” খেলার মাঠে কেউ যেন লাঠি নিয়ে তাড়াতে না আসে, এটাই তো স্বাধীনতা “। দেশের সর্বোচ্চ ধনীকদের এ প্রশ্ন করলে উত্তরে বলে-” যখন যা খুশি তাই করবো, এটাই তো স্বাধীনতা “। একটা প্রশ্নের এতো উত্তর মনের ভেতর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে ”প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা বলতে কি বুঝায়??” আবার অনেক কবি সাহিত্যিক বলেছেন এরুপ যে -” খাঁচার পাখি যখন প্রকৃতিতে মুক্তভাবে উড়ে বেড়ায়, সেই তো জীবনের স্বাধীনতা”।

এখন আমি রাষ্ট্রিক সমাজে বসবাসরত প্রত্যেক উত্তর দাতাকে আরো একটি করে প্রশ্ন করব…

ক. কৃষককে: যদি………….

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ “বাংলাদেশ ও ছাত্র রাজনীতি”

রাজনৈতিক কর্মধারার শুরুতেই কিছু প্রশ্ন আঁচ করা যাক, যেমন ধরেন সংগঠন বড় না দেশ বড়? দেশ আগে না সংগঠন আগে?  জনগন আগে না সংগঠন আগে?  প্রশ্নগুলো অতীব সহজ , যার উত্তর না ভেবে দেওয়া যায়। তবে রাজনৈতিক কর্মধারায় সেই উত্তরের  প্রতিফলন কতটুকু ঘটছে তা অবশ্যই না ভেবে উত্তর দেওয়ার মত নয়। কারন,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,